সত্য পীর – সত্য নারায়ণ
রচনাঃ কৃষ্ণ হরিদাস (মধ্যযুগ) নকলঃ তাহির মামুদ সংগ্রহঃ শাহ্জাহান আলী ফকির পাঠোদ্ধারঃ আকবর আলী মন্ডল গবেষনা ও পুনঃবিন্যাসঃ মোহাম্মদ জাকির হোসেন কম্পিউটার কম্পোজঃ মোঃ রবিন সরকার স্থানঃ ফুল্পুকুরিয়া, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সত্যপীরের পুঁথি প্রচলনে একটি লোকসাহিত্য গ্রন্থ বহুকাল থেকে সংরক্ষিত ও পঠিত। গোবিন্দগঞ্জ, দোঘরিয়া নিবাসী শাহজাহান আলী ফকির প্রবীন পুঁথি পাঠক। প্রচলিত পুঁথি পাঠের দিশাধারী জীবিতদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সত্যপীরের আখ্যান এ পজন্মে এক অর্থে জ্ঞানের অগোচরে। সত্যপীরের পুঁথি পাহারপুড় মালঞ্চানগর গ্রামের ময়দানব রাজার কেচ্ছা, সতেরশ`শ শতকে ফকির গরিবুল্লা শাহ (১৬৮০-১৭৭০) রচিত। এরপর বহু জ্ঞানী জন একাধিক নকল হাতে লিখে রেখেছেন, যার মধ্যে একটি প্রদর্শিত হয়, প্রদর্শনী গায়েন অরণ্য-২০২৫, ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে।
সর্বগুনে ভালো বাদশা ফকিরেরও কাল আল্লাহর ফকির দেখে করে অহংকার আল্লহর ফকির যদি মালঞ্চাতে যায় সাত পরল মাটি কেটে রাজা দরিয়ায় ভাসায় ।
ফকিরের হস্তপদ বান্ধে দুরাচার বন্ধন করিয়া রাখে কারাগারের দ্বার প্রভাতে উঠিয়া জল্লাদ হুকুমে দেয় শান বলিদান রক্ত দেখে রাজা করিবেন স্নান।
বন্ধনে পরিয়া ফকির আল্লাহ বলিয়া কান্দে তোমার জিকির করি প্রভূ পরম আনন্দে ভালো তো পাঠাইছো আল্লাহ দুনিয়ার মাঝারে পেটের দায়ে ঘুরি তোমার বান্দার দারে দারে আর, রাত্রি কাটিয়া গেলে প্রাণ চলে যায় তরাইয়া দাও মোরে ও’হে দয়াময়।
শাহজাহান ফকির, সত্যপীরের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন তাঁর নিজ গ্রামের ওয়াহেদ আলী পঞ্চায়েত ডাকনাম (পীরসাহেব) এর কাছ থেকে। শাহজাহান ফকির সহ গ্রামের আরো কিছু মানুষ পীরসাহেব এর কাছে শিখেছেন। এছাড়া অন্যান্য পুঁথিও পাঠ করেছেন, যার মধ্যে দিলদার কুমার, হাতেম তাই, বেহুলা লক্ষিন্দর আরও বহু কেচ্ছা ছিল। তিনি বন্ধু আকবর আলী মন্ডল এর সাথে ‘বিষহরীর পুঁথির দিশাধারী, এবং সত্যপীরের পুঁথি মুখস্ত।
হিন্দুর দেবতা মুসলমানের পীর দুই কুলে লইল সেবা করিয়া জাহির আল্লাহ বলে জিবরাঈল বাছা বলি যে তোমারে আমার বান্দা পরিয়া কান্দে রাজার কারাগারে ।
জিবরাঈল বলিল আল্লাহ পারওয়ার দেগার সকলি তামিল শুধু হুকুম তোমার আল্লাহ বলে রক্ষক আমি পাষাণ হইব না নিজ হাতে হায়াত দিয়ে নষ্ট করিব না—