অবকল্প বাংলাদেশ সম্পর্কে
ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরম্পরা চর্চায় সঙ্গীত সৃষ্টি।
অবকল্প বাংলাদেশ একটি সাংস্কৃতিক গবেষণা ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ঐতিহ্য, সঙ্গীত, কারুশিল্প, প্রকৃতি ও মানুষের সৃজনশীল প্রকাশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা হয়। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার বহমান সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে ভিত্তি করে অবকল্প ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও চর্চাকে সংরক্ষণ, নথিবদ্ধ ও অনুধাবনের পাশাপাশি তার নতুন সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করে।
গবেষণা, বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ, নথিকরণ, শিল্পচর্চা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে অবকল্প সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, গবেষক, শিল্পী, বাদ্যযন্ত্র নির্মাতা ও স্থানীয় জ্ঞানধারকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে। এই সম্মিলিত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে আমরা ঐতিহ্যকে শুধু অতীতের স্মৃতি হিসেবে নয়, বরং বর্তমানের চর্চা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয়।
অবকল্প বাংলাদেশ সেই বহমানতার সঙ্গে যুক্ত থেকে লোকজ জ্ঞান ও কারুশিল্পের ধারকদের পাশে দাঁড়াতে, প্রকৃতি ও উপকরণের প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি করতে এবং সংগীত ও সংস্কৃতির নতুন সম্ভাবনার জন্য একটি উন্মুক্ত পরিসর নির্মাণ করতে বদ্ধপরিকর।
আমরা যা সংরক্ষণ করি
অবকল্প বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, ঐতিহ্য শুধু পুরোনো কোনো বস্তু, গান কিংবা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত জ্ঞান, দক্ষতা, স্মৃতি, বিশ্বাস, জীবনযাপন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং সৃজনশীল চর্চার মধ্যেই ঐতিহ্য তার প্রকৃত রূপ ধারণ করে।
তাই আমাদের সংরক্ষণের ক্ষেত্রও বিস্তৃত—বস্তুগত ও অবস্তুগত, উভয় ধরনের ঐতিহ্যকে আমরা গুরুত্ব দিই। মানুষের সৃষ্ট বস্তু ও চর্চার উৎস, নির্মাণপ্রক্রিয়া, ব্যবহার, পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অনুসন্ধান করি। গবেষণা, নথিকরণ, সংগ্রহ, চর্চা ও সৃজনশীল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আমরা বহমান ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই।
সংরক্ষণ আমাদের কাছে কী?
আমরা সংরক্ষণ করি বস্তু, কিন্তু তার সঙ্গে থাকা জ্ঞানও; শব্দ, কিন্তু তার সঙ্গে থাকা স্মৃতিও; কারুশিল্প, কিন্তু তার সঙ্গে কারিগরকেও; ঐতিহ্য, কিন্তু তার পরিবর্তনের ধারাটিকেও।
আমাদের কাছে ঐতিহ্য অতীতের কোনো স্থির ছবি নয়। এটি মানুষের হাত, কণ্ঠ, স্মৃতি, প্রকৃতি ও সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে বহমান একটি প্রক্রিয়া।
সংরক্ষণ মানে শুধু অতীতকে ধরে রাখা নয়; তার জ্ঞান, স্মৃতি ও সৃষ্টিশীলতাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া।